-
Super fast delivery -
100% authentic -
Easy Return & Refund -
up to 30% off
- By RIFAT uddin
- May 28, 2024
- Blog
- Comments:1
আমাদের গ্রীষ্ম প্রধান দেশে শীত খুবই অল্প সময়ের জন্য আসে। বছরের প্রায় বেশিরভাগ সময় টাই কাটে কখনো ভয়ানক গরম আবার কখনো ভ্যাপসা গরম আবার কখনো কখনো জ্বালা ধরানো গরমে।
কখনো একটু বর্ষা এলেও গরম কিন্তু কমতেই চায় না। আর এইসব কারণেই প্রায়শই আমাদের চুলের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অতিরিক্ত গরমে চুল রুক্ষ হয়ে যাই, আবার কখনো ভ্যাপসা গরমে মাথা ঘেমে চুল ভেজা থাকে। অতিরিক্ত আদ্র আবহাওয়ায় চুল ও স্কাল্পে নানা সমস্যা হতে থাকে।
এছাড়াও রয়েছে বাইরের পলিউশন। এই সমস্ত বিভিন্ন কারণে চুলের সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের অনেককেই। আর তাই তো আজকের পোস্টে আলোচনা করব চুল পড়ার মূল কিছু কারণ ও তার সমাধান নিয়ে। তাহলে চলুন শুরু করি আজকের পোস্ট।

কী কী কারণে চুল পড়তে পারে?
সুন্দর লম্বা এবং ঘন চুল আমরা সবাই চেয়ে থাকি। কিন্তু চুল পড়া টা এখন খুব কমন ব্যাপার হয়ে গেছে। কম বয়সে ও এখন অনেকেই চুল পড়ার সমস্যা ফেস করছে।
যদি আপনি চুল পড়া কমাতে চান, তাহলে কিন্তু আপনাকে জেনে নিতে হবে, যে আপনার চুল পড়ার কারণ টা কি। চুল পড়ার মূল কারণটা না জানলে কোন ট্রিটমেন্ট করালেই চুলপড়া কিন্তু কমবে না। আসুন দেখে নিই কি কি ক্ষেত্রে আমরা চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা সম্মুখীন হয়ে থাকি।
1.STRESS: স্ট্রেস হলো চুল পড়ার একটা বড় কারণ, স্ট্রেস ২ ধরনের হতে পারে, মেন্টাল স্ট্রেস, কিংবা ফিজিক্যাল স্ট্রেস। যখন আমরা ধরুন খুব বেশি বেশি ওয়েট লুজ করছি, একটা কম সময়ের মধ্যে সেটাকে ফিজিক্যাল স্ট্রেস বলা হতে পারে। তার জন্য কিন্তু আমাদের চুল অনেকটাই পড়ে।
2. THYROID PROBLEM: থাইরয়েডের প্রবলেম থাকলে কিন্তু চুল পড়বে। আপনারা অবশ্যই আপনাদের থাইরয়েড লেভেল চেক করিয়ে নেবেন।
3.POOR EATING HABITS: পুর ইটিং হেবিট মানে খুব বেশি জাঙ্কফুড খেলেও আমাদের চুলের ক্ষতি হয়। এতে কিন্তু চুল পড়তে পারে।
4. IRON DEFICIENCY: অ্যানিমিয়া থাকলে ডাক্তারের পরামর্শমতো আয়রন সাপ্লিমেন্টস নিতে হবে। না হলে কিন্তু চুল পড়ার সমস্যা থামবেনা।
5. POST PREGNANCY HAIR LOSS: প্রেগনেন্সি হেয়ার ফল টা খুবই কমন। অনেক মহিলারাই এটা ফেস করে থাকেন। এটা স্বাভাবিক হেয়ার ফল কিন্তু আপনি অবশ্যই মেডিকেশন এর সাথে এই হেয়ার ফলটাকে কমাতে পারবেন।
6. LESS PROTEIN INTAKE: আমাদের চুল মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই আমরা যদি প্রোটিনযুক্ত খাবার বেশি না খায় তাহলে চুল পড়ার সমস্যা ফেস করব।
7. VITAMIN DEFICIENCY: ভিতামিন ডেফিশিয়েন্সি কিন্তু আরেকটা বড় কারণ চুলপড়ার। আমরা যদি সঠিক মত ভিটামিন যেমন বায়োটিন, ভিটামিন সি, এবং আরো কটা ভিটামিন ঠিকভাবে না নিই তাহলে কিন্তু চুল পড়তে পারে।
8. HORMONAL IMBALANCE: হরমোনাল ইম-ব্যালেন্স যদি আমাদের বডিতে হয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু চুল পড়বে। তাই কোন ডাক্তারের কাছে গিয়ে আমাদের হরমোন লেভেল চেক করিয়ে নেওয়া অবশ্যই দরকার।
9. OVER STYLING: আমরা কিন্তু আমাদের চুলে অনেক সময় ওভার স্টাইলিং করে থাকি। এর ফলে কেমিক্যাল এবং হিটের জন্য আমাদের চুল ড্যামেজ হয়ে থাকে এবং পড়তে থাকে।
10. HEREDITY: অবশেষে আমি চুল পড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটা বলব সেটা হল হেরিডিটি। বংশগত কারণে অনেকেরই চুল পড়ে এবং সময়ের সাথে চুলটা কিন্তু পাতলা হয়ে যায়। এটা শুধু পুরুষের ক্ষেত্রে হয়না, মহিলাদের ক্ষেত্রেও কিন্তু হয়। আশা করি আপনাদের বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়নি যে কি কি কারনে আসলে চুল পড়ে। আপনারা অবশ্যই আপনার চুল পড়ার মূল কারণ টাকে বার করুন। বার করার পর সেই অনুযায়ী কোন রেমিডি কিংবা টিটমেন্ট ইউজ করুন। তাতে কিন্তু আপনি অনেকটাই ফল পাবেন এবং আপনার সব সমস্যা কিন্তু তাতে ঠিক হয়ে যাবে।

চুল পড়া রোধে করণীয় কী?
চুলপড়া এখন খুব সাধারন একটি সমস্যা সঠিকভাবে যত্ন নিলে চুল পড়া সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যায়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে ত্বক রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর অপরাজিতা লাম্বা চুল পড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি টিপস দিয়েছিলেন। চলুন জেনে নিই।
(১) কোনভাবেই দুশ্চিন্তা করবেন না:- চুল পড়ার কোন সময় লাগে না যে কারো যে কোনো সময় চুল পড়তে পারে, এই নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। তিনি বলেন চুল পড়তে দেখলে খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক, কিন্তু দুশ্চিন্তা করলে আপনি চুল পড়া আটকাতে পারবেন না। তাই এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করার ও কিছু নেই। উল্টো চিন্তা যত কম করবেন আপনার চুল রক্ষায় সে টি ভালো কাজে দিবে।
(২) প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান:- যাদের চুল পড়ার সমস্যা আছে তাদের হেয়ার রি-গ্রোথ এর দিকে নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। অবশ্য চাইলে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খেতে ও পারেন। এছাড়াও বাজারে নানা ধরনের হেয়ার গ্রোথ ছিরাম পাওয়া যায় সেগুলোও বেশ কাজে দেয়।
(৩) পরিষ্কার রাখুন মাথার স্ক্যাল্প: চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করতে স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখার কোনো বিকল্প নেই। তাই নিয়মিত মাথার স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখুন, আপনি চাইলে বাজারে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু পাওয়া যায়, সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার?
চুল ত্বকের একটি বিশেষ অংশ, মাথার চুল ঝরে দিনদিন টাক পড়ে যাচ্ছে, বা চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, এমন লোকের সংখ্যাও অনেক। প্রতিদিন ১০০ টিরও বেশি চুল পড়লে মাথা ফাঁকা হতে শুরু করে, বিশেষজ্ঞরা এর বিভিন্ন কারণের কথা বলে থাকেন। চুল পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মানসিক অশান্তি, দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা, অপুষ্টি ও বৈজ্ঞানিক উপায় ডায়েট ইত্যাদি। এছাড়া জর লিভার ও কিডনির অসুখ থাইরয়েডের সমস্যা কেমোথেরাপি নেওয়ার পরে রক্তস্বল্পতা কিংবা কিছু ঔষধের কারণেও চুল অতিমাত্রায় পড়ে যেতে পারে।
এছাড়া খুশকি, উকুন, শুষ্কতা, ও চটচটে মাথার ত্বক ও চুলের জন্য শত্রু। তরুণ প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাস ও গুমের অনিয়মের কারণে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাছাড়া বর্তমানে পড়াশোনা সহ বিভিন্ন কারণে অনেকে মানসিক চাপে থাকেন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এবং মানসিক চাপ বেশি থাকলে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। চুলপড়ার আরেকটি ধরন হলো এলোপেসিয়া এরিয়েটা। বিভিন্ন কারণে এই রোগটি হতে পারে, এছাড়া জিনগত কারণে চুল পড়তে পারে। বংশের কারো চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে উত্তরাধিকারসূত্রে টাক মাথা পেতে পারেন।
চুল পড়া রোধে এর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। আর চুলের পুষ্টি আসে হেয়ার বালবের শিরা-উপশিরা থেকে। তাই চুলের পুষ্টির সঞ্চালন করতে হলে হেয়ার ফলিকলের নিচে ত্বকের গভীরে হেয়ার বাল্বে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে হবে। রোগীভেদে চিকিৎসক খাওয়ার ওষুধ চুল ঝরা বন্ধের লোশন শ্যাম্পু ইত্যাদি প্রেসক্রাইব করে থাকেন। আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে মেছো-থেরাপি ও পিআরপি এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা করতে বেশ কয়েকটি সেশন ও সময় লাগে। অ্যানড্রোজেনিক, অ্যালোপিসিয়া ও বংশগত টাক এর জন্য এটি একটি কার্যকরী চিকিৎসা। চুল এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদে নিতে হয় তাই ধৈর্য প্রয়োজন এবং লাইফ স্টাইল ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন কাম্য।
মাথার চুল ঝরে যাওয়ার এ রোগ কেন হয়, লক্ষণ ও প্রতিকার
মাথার চুল ঝরে যাওয়ার রোগ কেন হয়? লক্ষণ আর নিরাময় কিভাবে? দৈনিক যে হারে চুল পড়া স্বাভাবিক তার চেয়ে বেশি চুল পড়ে গেলে বা একই অনুপাতে নতুন চুল না গজালে, যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যালোপেসিয়া বলা হয়।
কিন্তু চুল পড়ার পর নতুন চুল না গজালে মাথার বিভিন্ন জায়গায় সম্পূর্ণভাবে টাক পড়ে যেতে পারে সেটিও এ রোগের কারণে হয়। তবে দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ টি চুল পড়া স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডলসেক্স হসপিটালে প্রাক্তন হাউস অফিসার ডাক্তার জাকিয়া সুলতানা।
তিনি জানালেন এই মুহূর্তে বিশ্বের প্রায় ১৪ কোটির ও বেশি মানুষের এলোপেশিয়া পূর্ণ অথবা আংশিক টাক রয়েছে। তার মতে অ্যালোপিসিয়ার বিভিন্ন ধরন আছে সে কারণে ভিন্ন ভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়, একেকজনের জন্য সেটি একেক রকম হতে পারে।
ডাক্তার জাকিয়া বলেন হঠাৎ যদি লক্ষ্য করেন তার চিরুনি ভর্তি করে অস্বাভাবিক ভাবে চুল পড়তে শুরু করেছে, বিছানা-বালিশ ভরে যাচ্ছে ঝরে যাওয়া চুলে মাথায় এক বা একাধিক জায়গায় ১ সেন্টিমিটার থেকে ৫ সেন্টিমিটার এলাকার চুল একসাথে খালি হয়ে গেছে, কিংবা মাথার সামনের অংশ দ্রুত খালি হচ্ছে তাহলে তার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এ রোগে শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশের হেয়ার ফলিকল আক্রান্ত হয়।

তাহলে জানা যাক অ্যালোপেসিয়া কি? যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই এ রোগের শিকার হতে পারেন, এমনকি শিশুদের ও হতে পারে। সাধারণভাবে মাথার চুল পড়ে যাওয়াকে অ্যালোপেসিয়া বলে। নারী-পুরুষ-শিশু সবার হতে পারে অ্যালোপেসিয়া। কি দেখলে বুঝবেন অ্যালোপেসিয়া হয়েছে? সাধারনত মাথার চুল পড়তে শুরু করে একটা নির্দিষ্ট বয়সের পরে এ ক্ষেত্রে একেক জনের একেক সময় সেটি শুরু হয়। চুল পড়ার ধরনও হয় প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা, কারো বেশী কারো কম, কিন্তু অ্যালোপেসিয়া অনেক স্বাস্থবান লোকের মাথা বা শরীরের চুল হঠাৎ পড়ে যেতে শুরু করে এবং ধারাবাহিক ভাবে পড়তে থাকে।
কখনো এটি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চুল পড়ে, কখনো আবার পুরো মাথা থেকে সব চুল পড়ে যায়। কখনো ভ্রু বা চোখের পাপড়ি সহ সারা শরীরের লোম পড়ে যায়। চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় এই অবস্থাকে অ্যালোপেসিয়া বলে। ৭০ বছর বয়সি নারীদের অন্তত ৪০ শতাংশ এ রোগে ভোগেন, যাতে দেখা যায় আচমকা শুরু হতে পারে মাথার চুল পড়া।
কেন হয় এই রোগ? নানা কারণে চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে, চুল পড়া সমস্যা কখনও সাময়িক ব্যাপার হতে পারে আবার কখনও স্থায়ী টাকও হয়ে যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন চুল পড়া একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া। ফলে স্বাভাবিক চুল পড়ার হার দেখে উদ্বিগ্ন না হওয়াই উচিত। ডাক্তার জাকিয়া সুলতানা জানালেন অন্য কোন শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ হিসেবে কখনো অধিক চুল পড়তে পারে। অর্থাৎ শরীরে কোন ঘাটতির কারণে চুল পড়া শুরু হতে পারে, আবার দীর্ঘদিন কোন রোগে ভুগলে ও তা হতে পারে।
যেসব কারণে চুল পড়তে পারে তার মধ্যে রয়েছে:
অসুস্থতা বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ, মানসিক চাপ, ওজন হ্রাস, আয়রনের ঘাটতি, ভিটামিন বি এবং ডি এর অভাব, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া, প্রোটিনের অভাব, মাথার খুশকি, মানসিক অবসাদ ও বিষাদ ,ক্যান্সারের চিকিৎসা কোন কারণ ছাড়া পড়তে পারে।
চুল পড়ার চিকিৎসা কি? সাধারণত চুল পড়া এলোপেসিয়া স্থায়ী কোনো সমাধান নেই। ডাক্তার সুলতানা জানালেন কি কারণে চুল পড়ছে সেই কারণটিই চিহ্নিত করা প্রয়োজন সবার আগে। এবং কারণ শনাক্ত হওয়ার পর সে অনুযায়ী চিকিৎসা করালে উপশম হবে এ রোগের, কিন্তু কখনো কখনো কারণ ছাড়াও চুল পড়ে যায় ফলে তার চিকিৎসা দেয়া কঠিন।
অ্যালোপিসিয়া সম্পর্কে কয়েকটি দরকারী তথ্য: প্রতি পাঁচ জন অ্যালোপিসিয়া রোগীর মধ্যে একজনের পরিবারের অন্যদের মধ্যে এই সমস্যা আছে। এটি হঠাৎ করে শুরু হয়, কখনো একেবারে কয়েকদিনের মধ্যে বন্ধ ও হয়ে যায়। যাদের অল্প বা হাতেগোনা কয়েকটি জায়গায় চুল পড়ে যাচ্ছে কখনও হঠাৎ করেই সে জায়গায় চুল গজাতে শুরু করতে পারে। চুল পড়ার স্থায়ী এবং দ্রুত কোন সমাধান নেই।
কি খেলে চুল পড়া বন্ধ হয়?
চুল পড়ে যাওয়া অনেক বড় একটি সমস্যা যা নারী-পুরুষ উভয়ের হয়ে থাকে। আর চুল হারালে কিন্তু কোনভাবেই আপনি আর চুলকে ফিরে পাবেন না। আবার অতিরিক্ত চুল পড়ার কারণে ধীরে ধীরে মাথায় টাক পড়ে যায়, চুল পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ, ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংক্রমণ বা এলার্জি। রক্তস্বল্পতা, আবহাওয়া, অপুষ্টি ও দূষিত পানি, তবে কয়েকটি খাবার বা মসলা নিয়মিত খেতে পারলে অপুষ্টিজনিত কারণে চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। এবং নতুন চুল গজিয়ে টাক পড়া বন্ধ হবে তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই খাবারগুলো সম্পর্কে।
(১) পালং শাক ভিটামিন বি, সি, ই, আর ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। এছাড়াও এতে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড ও আয়রন যা চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে।
(২) আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি তাই প্রতিদিন একটি করে আমলকি খেলে চুল পড়া বন্ধ হবে।
(৩) চুলে নারকেল তেল দেওয়া অনেক উপকারী তবে এই তেল রান্না করে খেলেও চুল ঝরা কমে যায়। কারণ নারকেল তেলে থাকা লরিক এসিড চুলের প্রোটিন এর যোগান দিয়ে গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।
(৪) চুলের যত্নে মেথির কোন জুড়ি নেই। মেথি তে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড যা চুলের গোড়া শক্ত করে। এছাড়া অকালে অতিরিক্ত চুল ঝরে যাওয়া কমায়।

কোন কোন অসুখের কারণে অতিরিক্ত চুল পড়ে?
চুল পড়ে যাওয়ার কারণ অনেকে খুঁজে পান না, কিন্তু এবারে আমি পাঁচটা এমন রোগের কথা বলব যে রোগ গুলো প্রায় অনেক মানুষেরই হয় ভীতর ভীতর এবং যার কারণে সবার আগে আপনাদের মাথা থেকে চুল টা পড়ে যায়। তো সেই পাঁচটা রোগ? আপনার মধ্যেও কি আদেও এই রোগগুলো আছে? বা ছিল সেটাই হচ্ছে এবার জানাবো।
সাবার প্রথমে যে কথাটা বলতে হচ্ছে সেটা হচ্ছে আমাদের ডেইলি লাইফ স্টাইল এমন হয়ে যাচ্ছে যে বিভিন্ন রোগ হতে বাধ্য করছি আমরা আমাদের মধ্যে। কিন্তু বন্ধুরা শুধু চুল পড়ায় নয় আরো অনেক সমস্যার সমাধান কিন্তু আমাদের খাওয়া-দাওয়া এবং আমাদের লাইফ স্টাইলের উপরে ডিপেন্ড করছে। তাই অবশ্যই আগে নিজের ডেইলি লাইফ ঠিক করুন এরপর নিচের পাঁচটা রোগ আছে কিনা চেক করুন।
১. জন্ডিস: সবার প্রথমে যে রোগ এর কথা বলতেই হচ্ছে যেটা হলে চুল সবার আগে পড়ে যায় সেটা হচ্ছে জন্ডিস। জন্ডিস অনেকের হয়তো হয়েছে এর আগে এবং চুল পড়ার সমস্যা নিয়ে আপনারা কিন্তু ভুগছেন এটা হতেই পারে। আপনাদের মাথা থেকে যাদের হঠাৎ করে চুল পড়ে যাচ্ছে, আপনারা ছেলে হোন বা মেয়ে হন আপনাদের যদি কোনদিনও ও জন্ডিস হয়ে থাকে বা রিসেন্ট জন্ডিস হয়ে থাকে, তাহলে সবার আগে চুল কিন্তু এই কারণেই আপনাদের পড়ছে। মোটামুটি ৬-৭ বছর পেরিয়ে গেলে চুল পড়ার সমস্যা টা অনেকটাই ঠিক হতে শুরু করে, কিন্তু মোটামুটি ১-২ বছরের মধ্যে যদি আপনাদের জন্ডিস হয়, তাহলে বিরাট বড় একটা সম্ভাবনা আছে আপনাদের চুল পড়ে যাওয়া।
২. টাইফয়েড: হ্যাঁ এই টাইফয়েড যদি আপনাদের কোন দিনও হয়ে থাকে, তাহলে আপনাদের মাথা থাকে সবার আগে কিন্তু চুল পড়ে যেতে পারে। আর এই জন্ডিস টাইফয়েড এমনই রোগ যেগুলো হলে শরীরের যে কোন একটা ক্ষতি করে দিয়ে তারপরে সেটা যায়। কাজেই সবার প্রথমে কিন্তু চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা মুখ্য কারণ হিসেবে টাইফয়েড না হলে জন্ডিস এই দুটোই ধরা হয়। আপনাদের যদি কারো জন্ডিস বা টাইফয়েড হয়ে থাকে তাহলে এখনি আমাকে কমেন্ট করে জানান।
৩. থাইরয়েড: এই থাইরয়েডিজমের প্রবলেম আজকাল খুব বেশি ভাবে বাড়ছে এবং এটাও একটা এমন রোগ হয়ে গেছে যেটা কিন্তু প্রায় ম্যাক্সিমাম মানুষেরই হচ্ছে। আপনি ছেলে হোন বা মেয়ে হন আপনাদের মধ্যে ওই থাইরয়েডিজমের প্রবলেমটা কিন্তু থাকতেই পারে। আর থাইরয়েডিজমের প্রবলেম যখন ই থাকবে তখন কিন্তু মাথা থেকে চুল সবার আগে পড়ে যাবে। আর যদি একটু গম্ভীর টাইপের সমস্যা হয় অর্থাৎ বেশিই থাইরয়েডের প্রবলেম হয় তাহলে অবশ্যই চুল আপনাদের কিন্তু পড়বেই।
৪. পিসিওডি বা পিসিওএস: বিশেষ করে মহিলাদের এই সমস্যার জন্য ম্যাক্সিমাম সময় কিন্তু চুল সবার আগে মাথা থেকে পড়ে যায়। তাই আপনি আপনার শরীরের চেক করে দেখবেন আপনার পিসিওডি হয়েছে কিনা
৫. ব্লাড সুগার লেভেল: সুগার আজ কাল অনেক মানুষেরই হয় এবং অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন, কিন্তু আপনারা হয়তো এটা জানেনা যে সুগার হলেও মাথা থেকে চুল সবার আগে কিন্তু পড়তেই পারে। ম্যাক্সিমাম সুগার রোগীর ই দেখবেন মাথার চুল সেরকম নেই। এবং চুল পড়ে যাওয়ার মুখ্য কারণ কিন্তু এই সুগার ও হয়। তাই আপনাদের কি কারো সুগারের জন্য চুল পড়ছে? অবশ্যই সেটা ভাবার বিষয়।
চুল পড়ার অন্যান্য রোগের নাম: এই যে রোগ গুলোর কথা বললাম সেগুলোর বাইরে আরও কিছু রোগ আছে যেগুলো জন্য কিন্তু চুল পড়ে যায়, প্রথমত হচ্ছে পেটের বিভিন্ন সমস্যা, দ্বিতীয়ত এসিডিটি, গ্যাস এই ধরনের সমস্যা থাকলেও চুল পড়ে। তার সঙ্গে সঙ্গে গভীর যদি শরীরের কোন রকম সমস্যা হয় অনেকদিন ধরে তাহলে সেটার জন্য ও চুল পড়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত চুল পড়া কিসের লক্ষণ?
চুল পড়া কি বেড়ে গেছে আধুনিক সব ট্রিটমেন্ট এর পরেও চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে? অতিরিক্ত চুল পড়লে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে যেমন ধরুন
- পরিবেশ দূষণ
- বয়স
- পুষ্টির অভাব
- হরমোনাল ইমব্যালেন্স
- জেনেটিক কারণ
- স্কাল্প ইনফেকশন
- হেয়ার প্রোডাক্ট এর মাত্রাতিক্ত ব্যবহার
- বেশ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- থাইরয়েড
- অটোইমিউন ডিজিজ
- পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম
- অ্যামোনিয়াম প্রভৃতি
আপনার মাথায় যদি অতিরিক্ত মাত্রায় চুল পড়তে শুরু করে তাহলে বুঝে নিতেই পারেন উপরের এই সমস্ত লক্ষণ গুলোর মধ্যে যেকোনো একটি লক্ষণ আপনার মধ্যে দেখা দিচ্ছে। তাই অতিরিক্ত চুল পড়লে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
প্রতিদিন কয়টা করে চুল পড়লে স্বাভাবিক?
আমাদের মাথায় স্বাভাবিক অবস্থায় প্রায় এক লক্ষ চুল থাকে যার মধ্যে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টা চুল পড়ে যাওয়া একেবারে স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এর থেকে বেশি মাত্রায় পড়তে শুরু করলেই চিন্তার বিষয়। এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, নাহলে কিন্তু মাথা ফাঁকা হয়ে যেতে সময় ও লাগবে না। চুল পড়ার অন্যতম কারণ খুশকি অনেক সময় সোরিয়াসিস নামক ত্বকের অসুখে খুশকির মতই মাথার চামড়া উঠে যায়। এক্ষেত্রে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করা উচিত। একসঙ্গে অনেক চুল পড়ে যেতে শুরু করলে কয়েকটা টেস্ট করাতে হয় রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করানো দরকার।
এমেনিয়া থাকলে চুল পড়া বেড়ে যায়, আবার থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য হলেও চুল ওঠে। স্ট্রেস চুল পড়া বাড়িয়ে দেয় তাই দূরে রাখুন মানসিক সমস্যা চেষ্টা করুন প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে। আবার সেবোরিক ডার্মাটাইটিস অ্যালার্জি ইত্যাদির কারণে খুব মাথা চুলকায়, এর ফলেও চুল পড়ে যায়। ওষুধ ব্যবহারে এই সমস্যা সমাধান হয়।

মেয়েদের চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার?
বংশগত কারণ ছাড়াও পুষ্টির ঘাটতি এমনকি বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ও হরমোন জনিত কারণে মেয়েদের চুল পড়তে পারে। তাই চুল পড়ার সমস্যা সমাধানের আগে জানতে হবে ঠিক কি কারণে চুল অতিরিক্ত পড়ছে, চলুন জেনে নেওয়া যাক মেয়েদের চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার।
(১) হরমোনের পরিবর্তন: নারীর মেনুপজের সময় হরমোনের ওঠা নামার কারণে অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে। মেনোপজের সময় ও পরে চুলের ফলিকল কমে যায় চুল পাতলা হতে পারে। সমাধান হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, হরমোন নিয়ন্ত্রণ করুন ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করুন।
(২) পুষ্টির ঘাটতি: বায়োটিনের অপর্যাপ্ত মাত্রার কারণে চুল ভঙ্গুল হয়ে যায়। যদি পর্যাপ্ত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি না খান তাহলে শরীরের পক্ষে আয়রন শোষণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। আয়রনের ঘাটতি চুল পড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, তাই পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
(৩) মানসিক ও শারীরিক চাপ: মানসিক ও শারীরিক চাপ টেলোজেন এলফুভিয়াম নামক অবস্থা সৃষ্টি করে ফলে মেয়েদের অতিরিক্ত চুল পড়ে। এ কারণে চুলের ফলিকল এর কার্যক্ষমতা কমে আক্রান্ত চুল গুলো পড়ে যায়। তাই মেডিটেশন ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনের ভারসাম্য জরুরি। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।
(৪) ওষুধ ও চিকিৎসা: বিটা-ব্লোকার, ব্লাড থিনার ,অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস, কোলেস্টেরল কমানোর ঔষধ, anti-inflammatory ড্রাগস, ও থাইরয়েড ঔষধ হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা steroid এর মত ওষুধের কারণেও মেয়েদের চুল পড়ে। যদি সন্দেহ হয় যে কোন ঔষধ চুলের ক্ষতি করছে, তাহলে বিকল্প ওষুধ বা সমাধান খুঁজে নিন।
(৫) চুলে ক্ষতিকর প্রসাধনী: স্টাইলিং সরঞ্জামের অত্যাধিক ব্যবহার, চুলের চিকিৎসা ও উল্টাপাল্টা চুল বাধার কারণে মেয়েদের চুলের ক্ষতি হতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত চুলগুলো ভঙ্গুর হয়ে ঝরে যেতে পারে। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিন ও ক্ষতিকর প্রসাধনী ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
সর্বশেষ কথা:-
প্রিয় পাঠক: কেমন লাগলো আমাদের চুল পড়া নিয়ে আজকের আয়োজন? আশা করছি আপনি আজকের এই পোস্টটি পড়ে চুল জনিত সকল সমস্যার কারণ ও সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। এরপরও যদি চুল বিষয়ক কোন প্রশ্ন না থেকে থাকে তাহলে সেটি কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আর আজকের পোষ্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারেন, আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি দেখা হবে আবার নতুন কোন পোস্টে সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন নিজের খেয়াল রাখুন আল্লাহ হাফেজ।
[…] all about hair fall Share post: ALL ABOUT HAIR FALL […]